গবেষণা

যুক্তরাজ্যে পুরুষ নারীর মজুরি সমতা নিশ্চিতে লাগবে আরো ৩০ বছর

পুরুষ ও নারীর মজুরি বৈষম্য সারা বিশ্বেই এখন আলোচিত বিষয়।

পুরুষ ও নারীর মজুরি বৈষম্য সারা বিশ্বেই এখন আলোচিত বিষয়। এ বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ দেখা গেলেও ব্যবধান পুরোপুরি দূরীকরণের জন্য তা যথেষ্ট নয়, এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা। ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেসের (টিইউসি) গবেষণা অনুসারে, বর্তমান অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাজ্যে নারী-পুরুষের মজুরি সমতা নিশ্চিত হতে আরো তিন দশক সময় লাগতে পারে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বার্ষিক লিঙ্গভিত্তিক মজুরি বৈষম্য দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৪৮ পাউন্ডে। এর অর্থ, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সময়টুকু কার্যত নারীরা বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছেন। বর্তমান গতিতে ব্যবধান কমানোয় অগ্রগতি চলতে থাকলে নারী ও পুরুষের সমান মজুরি নিশ্চিত হতে ২০৫৬ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

টিইউসির মহাসচিব পল নওয়াক বলেন, ‘নারীরা বছরের প্রথম দেড় মাস পুরুষদের তুলনায় কার্যত বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছেন। এটাই বাস্তবতা। কল্পনা করুন, প্রতিদিন কাজে যাচ্ছেন, কিন্তু কোনো বেতন পাচ্ছেন না। লিঙ্গভিত্তিক মজুরি বৈষম্য মানে সেটাই। ২০২৬ সালে এসে এটি অকল্পনীয়। জীবনযাত্রার ব্যয় যখন এখনো চাপে ফেলছে, তখন নারীরা আর এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন না। তারা তাদের ন্যায্য অংশ পাওয়ার অধিকার রাখেন।’

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ বৈষম্য আরো বাড়ে। কারণ নারীরা জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পুরুষদের তুলনায় বেশি অবৈতনিক দায়িত্ব নেন। পাশাপাশি শিশুসেবা, সামাজিক সেবা এবং নমনীয় কর্মঘণ্টার পর্যাপ্ত সহায়তা না থাকাও বৈষম্য বাড়িয়ে দেয়।

সামগ্রিকভাবে লিঙ্গভিত্তিক মজুরি বৈষম্য বর্তমানে ১২ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে খাতভেদে এর পার্থক্য রয়েছে। পানি ব্যবস্থাপনা খাতে নারীরা গড়ে পুরুষদের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি আয় করেন। আবার আবাসন ও খাদ্য খাত এবং কৃষিতে নারীদের আয় পুরুষদের তুলনায় ৩ শতাংশ কম। শিক্ষা খাতে নারীরা তাদের পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় ১৭ শতাংশ কম আয় করেন। আর অর্থ ও বীমা খাতে এ ব্যবধান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ২ শতাংশে।

পল নওয়াক বলেন, ‘গত বছর লেবার পার্টি প্রবর্তিত এমপ্লয়মেন্ট রাইটস অ্যাক্ট লিঙ্গভিত্তিক মজুরি বৈষম্য এবং অন্যান্য শ্রমাধিকার সমস্যার সমাধানে সহায়ক হতে পারে। এ আইন নারীদের মজুরি সমতায় পৌঁছতে গুরুত্বপূর্ণ একটি অগ্রগতি।’

গত আগস্টে প্রকাশিত ব্রিটিশ জার্নাল অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনসের গবেষণায় বলা হয়, গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে লিঙ্গভিত্তিক মজুরি বৈষম্যের হিসাব কম দেখানো হয়ে থাকতে পারে।

গবেষকরা বলছেন, বার্ষিক কর্মঘণ্টা ও আয়সংক্রান্ত জরিপে বড় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বেশি তথ্য পেয়েছিল অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস। ফলে প্রকৃত বৈষম্য আরো বেশি হতে পারে।

আরও